Monday, August 30, 2010

জলকন্যাদের ঘরবাড়ি:১

জলকন্যাদের ঘরবাড়ি:1


১। এ বছর এখোনো বৃষ্টি এলো না,
হা-ক্লান্ত শহর
খাঁ খাঁ তেপান্তর
বুকে হাঁটা গাছগুলো রোদ চুষে খায়।

২। মেঘেরাও জলকণা নিয়ে খ্যালে।
লোভে পড়ে স্যাঁৎসেঁতে গলি,
কিছু জল বুকে নিয়ে বুরবক হল।

৩।চান-ঘরে ঝিম্‌ধরা
বালতি-গামলা
গল্পেতে বলে কোন বর্গি হামলায়
ছিঁড়ে গ্যাছে বুক-বাহু,
সব গোপনতা...



৪।বিকেলে চারটের কলে জল এলে
গলিতে শিষ্‌ দিত অসুস্থ দোয়েলে

৫। এ পাড়ার ছেনাল মেয়েরা রোজ রাতে
ঠোঁট ফাঁক করে বৃষ্টি খায়।


আমি নিজেও খেয়েছি....

আলোকপাতের মুহূর্তে

১। ভেজা শহরের পথ সাজিয়ে
রেখেছে একরাশ
কাগজ-নৌকো।
একটা বকুল বকুল হাওয়া
থেকে থেকে জাপটে ধরছে
চৌধুরিদের চিলেকোঠা।


অসময়ের মুগ্ধতায়
গা ঢেলে দিয়েছে
শীতলপাটি,বিছানার ফুলছাপ।

আজ সারা মেঘদুপুর,আদর খেলেছে
জলপাই লতা।
২। ঘর-দুয়ার, হাড়-পাঁজর
পাল্টে পাল্টে
থিতু হচ্ছে বেপরোয়া স্থাপত্য।
মাধুকরী ছড়ানো ফুটপাত-
অন্নটুকু খুঁটে নিলে
পাশাপাশি থালায় আঁকা থাকে
দেশভাগ।

৩। আজকাল স্বপ্নরাও উপছে
পড়ে "ফিরে আসার ছোট্ট ব্রেক"এর
আগেই।



রূপকথার শেষে


অলৌকিক আরশিতে উপছে পড়ছে
অশ্লীল রোদ।
মেঘে মেঘে বৃষ্টির লুকোচুরি।
আকাশে পিঠ রেখেছে শাশ্বতী-

গল্পটা এখান থেকেই শুরু।
এরপর অধ্যায়ক্রমে লুটোপুটি খাবে
ভাঙ্গা মুকুটের রাজপুত্তুর,আর কিছু
দত্যি-দানাও।
গল্পের খাঁজে খাঁজে বয়ে যাবে
দু-এক ফোঁটা সুবর্ণবতী,
দু-এক কুচি ভিনপাহাড়ী
গান।

অতর্কিতে স্নানের ঝাঁঝরিতে বসা
নীল পাথুরে প্রজাপতি
উড়ে যাবে তীর্থযাত্রায়।

"বৃষ্টিবিলাস"






প্রথম তেষ্টা ভরা
মেঘেদের দিন
জলে ভাসা পার্ক-স্ট্রীটে
নিশ্চিন্ত ঘুম গ্যাছে
চিত্র হরিণ।

চিত্রল বটবৃক্ষ
চিকন শহর-
বেশুমার ভুলে যায়
বোকা রাই-কিশোরীর
ঘন মায়া-ঘোর।

বেচাল এ হৃদিময়
আসা-যাওয়া করে
ভেজা বুক,
ছায়া ঠোঁট
কৃষ্ণ-নাগরে।

জমে ওঠে কারচুপি,
জমে ওঠে শ্বাস,
নিরাময় খুঁজে ফেরে
কাকেদের
দুপুর-বিলাস।

বাসেরও জানালা দ্যাখে
আনমন ,কানুহীনা রাই-
নিকাশী হিসেবে বাড়ে
অপাঙ্গ আরশীতে
পহেলা জুলাই।

Tuesday, May 18, 2010

শহরতলির বোনেরা ...







(১) এইখানে সীমান্তের কাঁটাতার
শেষ।এরপর অলি-গলি
পাড়া-বেপাড়ায় ডানা
ছড়িয়েছে কিছু আরশিনগর।
পাঁচিলে পাঁচিলে জ্বলে ওঠে
রবীন্দ্র-সন্ধ্যা,আনাজের শেকড়-বাকড়
শেষ হয় আমাদের ক্লান্ত ভ্রমণ।

(২)
নামে সন্ধ্যা আপেল-বাগানে ।
আলোরা ঘুমতে যায়
গৌর বর্ণ
আমাদের মজে যাওয়া
রোমকূপ জুড়ে অতঃপর
মধুপুষ্প,কুহকের মাস।
আমাদের দীর্ঘদেহী সুপুরুষ ছায়া
খুঁজে নিয়ে আঙ্গিনায় ফিরেছে
ভ্রমর।

(৩) অ্যাকোয়ারিয়ামের শেষ কিছু দিনে,
আমাদের কান্না শেখানো হয়,
শেখানো হয় যেসব দিশ্‌-দিগরে
হাজার বছর বৃষ্টি হয়নি,
কিভাবে সেখানে জলতল
ধরে রাখতে হবে প্রাসঙ্গিকতায়।

(৪) নীলমাছ আর মেঠোবাঁশির গন্ডিতে
ডুবেই যেতো অই দুই বোন।
রোজ রাতে,ভাতে জ্যোৎস্না
মেখে খেতো।আজকাল তাই
জল নষ্ট হতে দেখলে
বড় ভয় করে।

(৫) আয়নাপ্রসঙ্গ ও আরশিনগর
বহুকাল ভুলেছে শ্রাবণ।
এখানে ইদানিং জিরিয়ে নিচ্ছে
বিষণ্ণ সেল্‌সম্যান।
বোনেদের গেরস্থালি,স্টিলের বাসন,
বাদ্যযন্ত্র,শিশুটিও ভেসে গ্যাছে
সুবর্ণরেখায়।।

Thursday, April 15, 2010

এখোনো পিঞ্জর






.....................,


ভেবেছিলাম বছরের প্রথম দিনটায় একটা মস্ত-বড় চিঠি লিখবো তোমায়,অথচ দিন গড়িয়ে রাত্রি এলো গাঢ়,আমার কিছুই হ'লো নানা চিঠি,না ভালবাসাআজ আবার একটা নতুন বছর তার পরিপূর্ণতা নিয়ে ঢ'লে পড়ছে আবার একঘেয়েমিতে...তা পড়ুকআমার একঘ্নী জীবনে তার কোনো মূল্য নেই তেমনআমার সেই একঘেয়ে দশটা আর পাঁচটার বিবর্ণতাই সত্যি হয়ে থাকঠিক যে'রম সত্যি তোমার চলে যাওয়াদাঁড় ছেড়ে উড়ে যাওয়া সেই লালম'ন,হীরেম'ন ফেলে যায় রূপকথা যেমতি


আমার এক আধবুড়ি গানের দিদিমণি ছিলোমাঝে মাঝে সন্ধ্যের ঝোঁকে গুনগুন করে গেয়ে উঠত পিলুতে,"কেনো এলে অবেলায়,পরাণপ্রিয়,"শুনেছি কেউ কোনোদিন নাকি ভালবাসেনি তাকেআমার মন খারাপ হোতোভাবতাম "আহারে..."
আজকাল আমিও লোডশেডিং এর অন্ধকারে ছাদে ঘুরঘুর করিকেন যেন মনে হয়,আমবাগানের ঠিক পিছনটাতেই একটা মস্ত বড় নদী আছেতার মনখারাপ রঙের জলে থমকে থাকে তারার আলোনদী দিয়ে ভেসে যায় লন্ঠন-জ্বলা নৌকোটিভেসে আসে ভেজা ভেজা সুর ভাটিয়ালি

ছাদের উপর সেই নারকেল গাছের সেই পাতাগুলো একই রকম আছেঝিরঝিরে বাতাস ও দেয় বেশআমি পাঁচিলে পিঠ দিয়ে বসে গুনগুন করে উঠি "পরাণপ্রিয়..........."

আচ্ছা,বলতে পারো আমার তো ভালবাসার অভাব থাকার কথা নয়তাহলে কেন শরীর জুড়ে জড়িয়ে থাকে এই নির্বেদ?এখন কি খাঁচা রয়ে গ্যালো কোথাও???আমার ও কি তবে পায়ের শিকল ঘুচলো না????


~যুঁথী